আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ রহঃ স্মৃতি চারণ সাব তো কেউ নেই ১

শহীদী মসজিদের খতিব মরহুম আনওয়ার শাহ’র তিরোধানে সৃষ্ট শূন্যতা আর পূরণ হবার নয়।তিনি যে বৈশিষ্ট্যময় গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন সাধারণত সে গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী আর কোনো ব্যক্তিত্ব নজরে আসে না।তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিলো তিনি ছিলেন একজন মহাজ্ঞানী আলেম।মাশাল্লাহ আমাদের দেশে আলেমের অভাব নেই কিন্তু জ্ঞানী আলেমের বড়ই অভাব।তাঁর জ্ঞান তাকে সর্বদা ভাবাবেগে পরিচালিত হতে বারণ করতো।আমার জানা মতে “জোশের সাথে সাথে হুঁশ থাকতে হবে”এই বিশ্বাসই আজ তাঁকে তাঁর এ উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছিলো। ধীরস্থির ভাবে চিন্তা ভাবনা না করে শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে তিনি কখনও কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন না।অনেক সময় তাঁর এ স্বভাব তাকে বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখীন করেছে।তবুও তিনি স্রোতে ভেসে না গিয়ে নিজের জ্ঞানগম্য সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছেন।স্পষ্টবাদিতা ছিলো তার অন্যতম বৈশিষ্ট্যের একটি। যা বুঝতেন তা স্পষ্ট বলে দিতেন। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠস্বর তাকে করেছিলো শোভামণ্ডিত। তিনি অত্যন্ত সচেতন একজন ধর্মীয় চিন্তানায়ক ছিলেন।আলেম সমাজের সার্বিক অবস্থা ও অবস্থান লক্ষ্য করে এ সমাজের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বিষয়ে স্বতন্ত্র একটা চৈতন্য হৃদয়ে লালন করতেন।তিনি আলেম সমাজকে তাদের স্বকীয় গৌরবান্বিত আসনে অধিষ্ঠিত করবার অভিলাষ অন্তরে পোষণ করতেন।তিনি সবসময় আলেমসমাজে বাস্তবসম্মত ঐক্য স্থাপনের প্রচেষ্টা করেছেন।আলেম সমাজের অনৈক্যে তিনি মুসলিম উম্মার পতনের প্রধান কারণ মনে করতেন ঐক্য চেষ্টা আর ঐক্য চিন্তাই তাঁকে এক অসাধারণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বে পরিগণিত করেছিলো।যে কোনো দুর্যোগময় জাতীয় সংকট মোকাবেলায় তিনি হয়ে ওঠতেন জাতির সফল কর্ণধার। এবং ধর্মীয় সর্বশ্রেণীর সকল মানুষের ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল।(যার চাক্ষুষ প্রমাণ আরজাবাদ মাদরাসায় স্বীকৃতি মাহফিলে মরহুমকে পরিকল্পিতভাবে লজ্জিত করা) ইসলামপ্রিয় সকল জনতাকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তাঁর ভূমিকা ছিলো কালোত্তীর্ণ। প্রতিটি ঐক্য প্রচেষ্টাকে তিনি স্বাগত জানাতেন।যোগ্যতানুসারে সকলকে কাজে লাগিয়ে উম্মাহর সামগ্রিক কল্যাণ সাধনের প্রয়াসে তিনি ছিলেন অগ্রপথিক।ইলম ও জ্ঞান জগতে তার সাবলীল বিচরণ লক্ষণীয়। আমি মরহুমকে বলতে শুনেছি,,,চলবে…

লেখকঃ সালাহউদ্দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *