আগামী একমাস আমরা যে ভয়াবহ কঠিন সময়ের মুখোমুখি

চিন্তাশীল একটি মহলের বিজ্ঞ ব্যক্তিরা বলছেন, সরকার তার ভুল পলিসির ফলে কোভিড১৯ মহামারী নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে গেছে।

সরকারের সামগ্রিক অযোগ্যতা দুর্বলতা ও ব্যর্থতার কারণে দেড় মাস মানুষ সীমাহীন কষ্ট করেও কোনো লাভ পায়নি।

আর্মি পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন খামাখাই অতিরিক্ত কষ্ট সহ্য করেছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

ডাক্তার নার্স স্বাস্থকর্মী পুলিশ রেব ও ত্যাগী যোদ্ধারা আক্রান্ত হয়েছেন।কিছু মারাও গিয়েছেন।

মন্ত্রী এমপিরা প্রাণ নিয়ে দূরে সরে গেছেন। গরিব সীমাহীন কষ্ট করেছে। অসহায় মার খেয়েছে। বৃদ্ধ ও রোগীরা আবদ্ধ থেকে শারীরিক মানসিক ভাবে স্থবির হয়ে গেছেন।

কিছু নেতা ও দুর্নীতিবাজ অপরাধ এবং পাপাচার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও ভুলতে পারেনি। চিকিতসা, পরীক্ষা, মাস্ক কেনা, করোনার গতিবিধি নিয়ে ধুনপুন হতেই থেকেছে।

অনিয়ম ধরায় ভালো অফিসারদের শাস্তি যথারীতি অব্যাহত ছিলো।

অবাধে চাল, তেল, ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। আবার কম্বল চোর, গরম চোর অভিধা মানুষের স্মৃতিতে ধরা দিয়েছে।

ধনীরা শ্রমিকদের নিয়ে তামাশা করেছে। সরকারকে চাপ দিয়ে তারা নগদ টাকা হস্তগত করেছে।

প্রায় একলাখ কোটি টাকা একদল বিশিষ্ট লোক সরকার থেকে প্রণোদনা প্যাকেজ নেওয়ার ব্যবস্থা পাকা করে ফেলেছে।

প্রধানমন্ত্রী সাথের মুষ্টিমেয় কর্মকর্তাকে নিয়ে একজন ব্যক্তিরূপে গোটা সময়টি ধারণাতীত পারফর্মেন্স করেছেন। মনে হয়েছে তার কোনো দল সরকার কেবিনেট বা উপদেষ্টা নেই। শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যা হিসেবে বাংলাদেশের জন্য তিনি একাই কাজ করেন। আসলে তার সবই আছে, তবে তারা না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর কোনো সমস্যা হবে না, যেমন থেকেও কোনো লাভ হয় বলে মনে হয়না।

১২ বছর তিনি যে বিশাল একটি কর্মশক্তি নিয়ে জীবনের সেরা সময়টি দেশকে দিলেন, তারা কোথায় আর তাদের বিরাট এক অংশ এ সময় নেত্রীকে দুঃখ ও বদনামের তকমা ছাড়া কিইবা দিল? গরিবের পেটে লাথি আর আধমরা কৃষকের পাকা ধানে মই তাদের কেউ কেউ ঠিকই দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দয়ার শরীর কাউকে পরিষ্কার না বলতে পারেন না। বাবার মতো আস্তিনের সাপে না কামড়ালেই হয়।

দেশ যখন হিসাবের অংকে মহামারীর পৌনে বারটা পর্যন্ত পৌঁছে যায় যায়, তখন সব এলোমেলো হয়ে গেছে বলে মনে হয়।

সামনে ভয়াবহ মহামারীর সর্বনাশা রূপ প্রকাশ পাবে। এর দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্যই, যখন আসলেই সব বন্ধ রাখার মূল সময়টিতে দেশ ও জাতি পৌঁছেছে, তখন অবিবেচকের মতো সরকার সব খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে।

এটি আমাদের চরম দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছুই নয়। আল্লাহ নিজ হাতে কোনো বিশেষ দয়ার আওতায় না বাঁচালে আমাদের অনেক বড় একটি অংশের মরণ ছাড়া উপায় নাই। আমি আপনি চলে যেতে পারি এ যাত্রা। পারেন অন্য কোনো ভাই বোন কিংবা আমাদের মুরব্বি ও সন্তান সন্ততি।

এদিকে মসজিদ নিয়ে আরেক রাজনীতি। শুরু থেকেই মসজিদের বিষয়টি সরকারের নির্দেশনার ওপর ছেড়ে না দিয়ে শরীয়া, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি এবং দেশের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে উলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ ছিলো।

এটি আলেমসমাজ ইচ্ছা করলেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত করতে পারেন কিন্তু কোভিড১৯ এর এ সংকট মুহূর্তে তারা এ বিষয়ে সরকারের সামনে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন এবং জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারেন নি।

যে কারণে আমলারা শরীয়তবিরোধী উপায়ে মসজিদে জুমা ও জামাত পরিচালনা করার সুযোগ নিয়েছেন।

আলেমগণ নিজেরাই দুতিন বার দুতিন রকম মতামত দিয়েছেন। যার ফলে সরকার বা সাধারণ মানুষকে তারা প্রভাবিত করতে পারেন নি। কেউ কেউ অভ্যাসগত হুমকি হুংকার ছেড়েছেন, তবে এর প্রতি তারা নিজেরাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। আসলে কী বলা উচিৎ, তিনি কী বলছেন, দায়িত্বশীল হিসাবে এসব বলা ঠিক না বেঠিক, এসব নিয়েও তারা ছিলেন অজ্ঞ ও সন্দিহান।

এমন সংকট মুহূর্তে তারা দায়িত্বে থাকলে কী করতেন, কাকে হুমকি দিতেন, এ সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান ও ধারণাও নেই। এরা নিজেদের লোকজনকে চাঙ্গা রাখতে মাঝে মাঝেই একটা কিছু বলেছেন।

এখন হয়তো হাল ছেড়ে দিয়ে সবকিছুর জন্য জনগণকে দায়ী করার পলিসির আওতায় মসজিদের ব্যাপারেও মুসল্লী সমাগমের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আর আলেমদের বলা হবে,আপনাদের দাবি মেনে নেওয়া হলো।

চিন্তাশীল বহু লোকের কাছে গোটা বিষয়টি এমনই মনে হচ্ছে।

লেখকঃ মাওলানা উবাইদুর রহমান খান নদভী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *