প্রসঙ্গঃ পাঁচজন মুসল্লি হয়ে গেলে মসজিদ বন্ধ করে দেয়া যাবে কি?

প্রশ্নঃ
মুফতি সাহেব! বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে মুসল্লির সংখ্যা পাঁচজন নির্ধারন করা হলেও প্রায় সময়ই বেশি হয়ে যায় ৷ এক্ষেত্রে কি আমরা এমনটি করতে পারি যে, যখনি পাঁচজন মুসল্লি হয়ে যাবে তখন মসজিদ বন্ধ করে দিয়ে পাঁচজন নিয়ে নামায পড়ব?
জানালে উপকৃত হবো ৷

উত্তরঃ
মসজিদ মুসলমানদের ইবাদতের স্থান ৷ শুধু নামাযের জন্য নয়; বরং যিকির-আযকার, কুরআন তিলাওয়াত ও দ্বীনী তালীমের জন্যও বটে।
হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
إِنّمَا هِيَ لِذِكْرِ اللهِ عَزّ وَجَلّ، وَالصّلَاةِ وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ.
অর্থাৎ মসজিদ হল নামায, যিকির ও কুরআন পড়ার জন্য। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৮৫

তাই সাধারন অবস্থায় নিয়ম হল, ফরয নামাযের সময় ছাড়াও মসজিদকে প্রয়োজন মোতাবেক ইবাদত, তালীম ও যিকিরের জন্য উন্মুক্ত রাখা। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ বন্ধ রাখা ঠিক নয়। ইবনুল হুমাম রাহ. বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদ বন্ধ রাখাকে- মানুষকে মসজিদ থেকে বাধা প্রদান করার অন্তর্ভুক্ত করেছেন কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَ مَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ مَّنَعَ مَسٰجِدَ اللهِ اَنْ یُّذْكَرَ فِیْهَا اسْمُهٗ وَ سَعٰی فِیْ خَرَابِهَا .

তার চে’ বড় জালেম আর কে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম নিতে বাধা প্রদান করে এবং সেগুলো ধ্বংস সাধনে প্রয়াসী হয়।
-সূরা বাকারা, আয়াত : ১১৪ ৷

   সব সময় মসজিদ খোলা রাখলে মসজিদের মালামাল হেফাযতের বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ বিষয়টি বিবেচনা করে কোনো কোনো ফকীহ প্রয়োজনের কারণে নামাযের সময় ছাড়া অন্য সময় মসজিদ বন্ধ রাখাকে জায়েয বলেছেন। তাই এ ধরনের প্রয়োজনে নামায ব্যতীত অন্যান্য সময় মসজিদ বন্ধ রাখার অবকাশ আছে।

কিন্তু নামাযের সময় বা মুসল্লিদের নামাযে অংশ গ্রহন করা থেকে বিরত রাখার জন্য মসজিদ বন্ধ করে দেয়া যাবে না ৷ করোনা পরিস্থিতিতেও পাঁচজনের বিষয়টি সরাসরি শরঈ কোনো বিষয়টি না হওয়ার কারণে উক্ত সংখ্যা ঠিক রাখতে মসজিদ বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই ৷ বরং মসজিদ বন্ধ করে দেয়াটা,
, وَ مَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ مَّنَعَ مَسٰجِدَ اللهِ اَنْ یُّذْكَرَ فِیْهَا اسْمُهٗ وَ سَعٰی فِیْ خَرَابِهَا .
তার চে’ বড় জালেম আর কে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম নিতে বাধা প্রদান করে এবং সেগুলো ধ্বংস সাধনে প্রয়াসী হয়।
-সূরা বাকারা আয়াত: ১১৪ ৷

কুরআনের এই আয়াতের সরাসরি বিপরিত হয়ে যাবে ৷
মানুষকে নামায বাড়িতে পড়তে উতসাহিত করবে ৷ এরপরও যারা মসজিদে চলে আসবে তাদের নিয়ে জামাতে নামায আদায় করবে ৷

  -ফাতহুল কাদীর ১/৩৬৭; রূহুল মাআনী ১০/; শরহুল মুনয়া পৃ. ৬১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৯ ৷

উত্তর প্রদানে
মুফতী মেরাজ তাহসীন
মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *